সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে শ্রমিক নেতারা নিজেদের দাবি-দাওয়া, কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের প্রত্যাশা, মজুরি কাঠামো এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
এর আগে একই দিন সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের নেতারা। ওই বৈঠকে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এ জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে রোববার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সোমবারই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তা সম্ভব না হলে খুব শিগগিরই সভা আয়োজন করা হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নিয়ে মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হবে।
তিনি আরও জানান, সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব নতুন ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত ও ঘোষণা করার প্রত্যাশা রয়েছে সরকারের। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা হলো, শ্রমিকদের স্বার্থ যেন যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয় এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। শ্রমিকদের দাবিগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তব পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতেই নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এ নিয়ে অযথা অসন্তোষের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এই শিল্পে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের আয়, কর্মপরিবেশ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে শ্রমিক ও মালিক—দুই পক্ষেরই প্রত্যাশা রয়েছে।
সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেলে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকারের এই বৈঠককে চলমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বৈঠকে শ্রমিক নেতারা কী কী দাবি তুলে ধরেন এবং সেসব বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানতে আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।