সোমবার (২ নভেম্বর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান। তিনি জানান, রোববার রাতে নিহতের ছেলে সৈয়দ নূর আমিন সৌহার্ত্য বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পাঁচ ভাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ সিদ্দিক নামে একজনকে রোববার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফ্রিজ কেনার বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সৈয়দ হুমায়ুন কবির নগরীর বয়রা এলাকার মোস্তফার মোড়ে আরাফাত হোসেনের একটি দোকান থেকে কিস্তিতে ফ্রিজ কিনেছিলেন। ফ্রিজটির মূল্য পরিশোধের পরও আরাফাতের কাছে তার ১০ হাজার টাকা বকেয়া ছিল।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই টাকা আদায়ের জন্য রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে অবস্থিত হুমায়ুন কবিরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিল ক্যান্টিনে যান আরাফাত হোসেন। সেখানে বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আরাফাত সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর তিনি তার আরও তিন থেকে চার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। এরপর বকেয়া টাকা নিয়ে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তাদেরও তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুমায়ুন কবিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক পরিচয় থাকা ব্যক্তিদের নাম হত্যার মামলায় আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধই মূল কারণ কি না, সে বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো— ফ্রিজের ১০ হাজার টাকা বকেয়া নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হুমায়ুন কবিরের মৃত্যু এবং এ ঘটনায় পাঁচ ভাইসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা। তবে অভিযোগের সত্যতা ও প্রত্যেক আসামির ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।