সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই অনুদান বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করে সবার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষা করার পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকেও রাষ্ট্র পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেও উল্লেখ করেন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয়টি রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জন্য তিনি অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে অত্যন্ত ক্লান্ত দেখেছিলেন। কিন্তু কথাবার্তায় সেই ক্লান্তির কোনো প্রকাশ ছিল না। দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি তিনি সব সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।
কায়কোবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষক, নিম্ন আয়ের পরিবার ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গুরুদের জন্য ভাতার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমাজে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের কল্যাণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান তিনি। আল্লাহ যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন, সেই প্রার্থনাও করেন ধর্মমন্ত্রী।
মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।