সোমবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পাওয়া অন্য তিন আসামি হলেন রকি হোসেন পিচ্চি, মনির হোসেন ও আবুল হাসান ওরফে কালা হাসান।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত চার আসামির প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় ওয়াকিল হোসেন বগাসহ এজাহারভুক্ত মোট ১২ আসামির রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। তবে শুনানি ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা শেষে আদালত চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি আট আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
শিক্ষককে মারধরের মামলার সূত্র ধরে সংঘর্ষ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটির সূত্রপাত হয় গত সেপ্টেম্বরে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওয়াকিল হোসেন বগাকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার পর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে বগার অনুসারীরা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অবরোধকারীদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে এসব ঘটনায় চট্টগ্রামের খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াকিল হোসেন বগাসহ এজাহারভুক্ত ১২ জনের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
আদালতের আদেশের পর চার আসামিকে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তে শিক্ষককে মারধরের ঘটনা, পুলিশের অভিযানে বাধা, হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আসামিদের কী ধরনের ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে মামলার প্রেক্ষাপট থেকে ধারণা করা যায়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।