বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্প। এ খাতে কাজ করছেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক শ্রমিক।
এমন পরিস্থিতিতে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। এ দাবিতে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশপাশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। শ্রমিকদের অসন্তোষের মধ্যে সরকার নতুন ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বর্তমানে একজন গার্মেন্টসকর্মী কত টাকা বেতন পান? কোন গ্রেডে কত মজুরি নির্ধারিত রয়েছে? আর বর্তমান বেতন থেকে এক লাফে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি কতটা যৌক্তিক?
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১২ নভেম্বর সরকার নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করে।
চূড়ান্ত কাঠামোয় শ্রমিকদের জন্য চারটি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। নতুন মজুরি ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তবে শ্রমিকেরা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে শুরু করেন।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মোট মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৫ টাকা।
গ্রেড অনুযায়ী সর্বনিম্ন মাসিক মজুরির পরিমাণ হলো—
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ১২ হাজার ৫০০ টাকা একজন শ্রমিকের মূল বেতন নয়; এটি বিভিন্ন ভাতাসহ মোট মাসিক মজুরি। সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন শ্রমিকের মূল বেতন ৬ হাজার ৭০০ টাকা। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ টাকা এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা যুক্ত হয়।
এ ছাড়া নতুন শ্রমিকদের জন্য তিন মাসের শিক্ষানবিশকাল নির্ধারিত রয়েছে। এ সময়ে তাদের মোট মাসিক মজুরি ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।
মজুরি কাঠামোয় মূল বেতনের ওপর বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের বিধানও রয়েছে। তবে একজন শ্রমিকের প্রকৃত মাসিক আয় নির্ভর করে তাঁর পদ, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর।
২০২৩ সালে মজুরি বাড়ানোর পরও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বর্তমান বেতন দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে মাসের শুরুতেই বাড়িভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের বড় অংশ চলে যায়।
চাল, ডাল, তেল, মাছ, সবজি থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও বাসাভাড়ার ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করেও অনেক শ্রমিক সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।
এ অবস্থায় শ্রমিকদের একটি অংশ ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান বাজারদর ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় এই পরিমাণ মজুরি প্রয়োজন।
শুধু বেতন বাড়ানোই নয়, আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ, নিয়মিত বেতন প্রদান, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করা। শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার মতো চর্চা বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তাঁদের অনেকে।
তবে সব শ্রমিক সংগঠনের দাবির পরিমাণ এক নয়। বিভিন্ন সময়ে ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনে অবশ্য ৩০ হাজার টাকার দাবিই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিতে শুরু করে। প্রথম দিকে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় আন্দোলনের খবর পাওয়া যায়। পরে তা সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
৩১ অক্টোবর ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় আশুলিয়ার অন্তত ৩০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে শ্রমিক সংগঠনের একজন নেতার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে হয়েছিল।
পরদিন ১ নভেম্বরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে সকাল থেকে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ মেট্রোরেলের প্রবেশপথও বন্ধ রাখা হয়।
একই দিন গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সংঘাতের কারণে কয়েকটি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে হয়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন গাজীপুরে ২৫ থেকে ৩০টি কারখানা বন্ধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছিল।
শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ১ নভেম্বর পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বোর্ড গঠনের বিষয়টি জানান।
নতুন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন।
অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করাই হবে বোর্ডের প্রধান দায়িত্ব।
এর আগে ৩১ অক্টোবর শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সম্মত হয়েছে। বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও পরদিন বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন অব্যাহত ছিল।
শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি থাকলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং ক্রয়াদেশের ওঠানামার কারণে অনেক কারখানা আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে।
মালিকপক্ষের মতে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কারখানার আর্থিক সক্ষমতা, উৎপাদন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর পক্ষে বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি বহন করা কঠিন হতে পারে। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে মজুরি বাড়ানো হলে কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্রমিক ছাঁটাই কিংবা নতুন কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মালিকেরা।
অন্যদিকে শ্রমিক নেতারা বলছেন, ব্যবসায়িক সক্ষমতার যুক্তি দেখিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে গিয়ে শ্রমিকদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তাই নতুন মজুরি নির্ধারণে আর দেরি করা উচিত নয়।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবির পাশাপাশি শ্রমিকদের একটি অংশের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক পোশাকশ্রমিকের বক্তব্য, বর্তমানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা মোট মাসিক মজুরির একজন শ্রমিক ওভারটাইম, হাজিরা বোনাস ও টিফিন সুবিধাসহ মাসে প্রায় ১৭ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। তাঁর মতে, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হয়ে একজন শ্রমিকের মোট আয় আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে।
তিনি নতুন শ্রমিকদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তাঁর ভাষ্য, একজন নতুন হেলপার কারখানায় যোগ দেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস কাজ শেখেন। অনেকের আগে থেকে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। মেশিন চালানো, উৎপাদন প্রক্রিয়া বোঝা এবং কারখানার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁদের সময় লাগে।
এ কারণে নতুন ও অভিজ্ঞ শ্রমিকদের উৎপাদন সক্ষমতার পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ওই শ্রমিকের প্রশ্ন, দেশের সব পোশাক কারখানার কি একযোগে এত বেশি মজুরি দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে? বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো কীভাবে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁর আশঙ্কা, অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের মজুরি পরিবর্তন করা হলে শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তিনি অন্তত ১০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এই সংখ্যার পক্ষে কোনো স্বাধীন পরিসংখ্যান বা যাচাইকৃত প্রক্ষেপণ পাওয়া যায়নি।
তবে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেননি। তাঁর মতে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পের টিকে থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প শুধু লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র নয়, দেশের রপ্তানি আয়েরও প্রধান উৎস। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই শিল্পের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ।
এ কারণে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি কেবল শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যকার কোনো সাধারণ বিরোধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ, শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা এবং লাখো পরিবারের জীবিকা।
একদিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এখন নতুন মজুরি বোর্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, উৎপাদনশীলতা এবং কারখানার আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমন্বয় তৈরি করা।
শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখাও জরুরি। এমন একটি মজুরি কাঠামো প্রয়োজন, যাতে শ্রমিকেরা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন এবং কারখানাগুলোও উৎপাদন ও কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।