২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান ডেম্বেলে এবারও পুরস্কারটির ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে নিজের শিরোপা ধরে রাখার দৌড়ে এবার তিনি খুব একটা এগিয়ে নেই। এর মধ্যেই ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্য বলে নিজের পছন্দের তিন ফুটবলারের নাম জানিয়েছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেম্বেলেকে প্রশ্ন করা হয়, নিজের হাতে ব্যালন ডি’অরের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে কাকে বেছে নিতেন তিনি। কোনো দ্বিধা না করে প্রথম পছন্দ হিসেবে সতীর্থ খভিচা কভারাৎস্খেলিয়ার নাম বলেন তিনি। জর্জিয়ার এই তারকা বর্তমানে পিএসজির আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
ডেম্বেলের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। আর তৃতীয় পছন্দ হিসেবে তিনি রেখেছেন নিজের সাবেক পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় ডেম্বেলে তিন ভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে জায়গা দিয়েছেন—কভারাৎস্খেলিয়ার ড্রিবলিং ও সৃষ্টিশীলতা, কেইনের গোল করার সামর্থ্য এবং এমবাপ্পের গতি ও আক্রমণাত্মক দক্ষতা।
তবে নিজের নামটি সেই তালিকায় রাখার কোনো ইচ্ছা নেই ডেম্বেলের। তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সুযোগ পেলে তিনি নিজেকেই কি ভোট দিতেন? জবাবে ফরাসি তারকা বলেন, ‘না, আমাকে যদি বাছাই করার সুযোগ দেওয়া হতো, আমি নিজেকে তালিকায় রাখতাম না এবং ভোটও দিতাম না।’
গত বছর ব্যালন ডি’অর জয়ের পর নিজের ওপর প্রত্যাশা এবং সমালোচনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন ডেম্বেলে। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত ফুটবল পুরস্কার জেতার পর একজন খেলোয়াড়ের প্রতি মানুষের নজর আরও তীক্ষ্ণ হয়ে যায়। ফলে মাঠে সামান্য ভুল বা প্রত্যাশার বাইরে পারফরম্যান্স করলেও সমালোচনার মাত্রা বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে ডেম্বেলের বক্তব্য, ‘সমালোচিত হওয়াকে আমি পাত্তা দেই না। এটা খেলার অংশ। ফুটবলে আপনি সবসময় সমালোচিত হবেন, আর যখন আপনি ব্যালন ডি’অর জয়ী তখন সেটা আরও বাড়বে।’
নিজের ওপর বাড়তি নজরদারিকে অবশ্য নেতিবাচকভাবে দেখছেন না পিএসজির এই তারকা। বরং বিষয়টি তাকে হাসায় বলেই জানিয়েছেন তিনি। ডেম্বেলে বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছি, তাই আমি এখন আরও বেশি নজরদারিতে। এটা আমাকে হাসায়। আপনাকে সবসময় নজরে রাখা হচ্ছে। কিন্তু এটা আমাকে ভাবায় না।’
ডেম্বেলের বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যালন ডি’অর জয়ের পর পাওয়া বাড়তি চাপকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বাইরের সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে মাঠের খেলাতেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি। আর পুরস্কারটির লড়াইয়ে নিজের নাম থাকলেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বীদেরই এগিয়ে রাখছেন ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।