মাদক, জুয়া ও কিশোর-যুব অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মান উন্নয়ন এবং ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন, খেলার সামগ্রী ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, লালমনিরহাটে প্রায় দুই মাস ধরে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে জুয়ার আসর বসত। এখন মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই জুয়ায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
মন্ত্রী শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি এলাকায় শিশুদের মাঠে গিয়ে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতেও তা সহায়ক হবে।
মাদক, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়—এ জন্য পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের নিরাপদ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পাশাপাশি তাদের জন্য খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস।
এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেলাই মেশিন এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।