টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ের পথে ফিরেছে ইন্টার মায়ামি। আর সেই প্রত্যাবর্তনের গল্পে পুরো আলোটাই কেড়ে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকার দুর্দান্ত চার গোলের নৈপুণ্যে মন্ট্রিয়েলকে ৭-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে মায়ামি।
ফ্লোরিডায় মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মায়ামি। নিজেদের মাঠে জয়ের জন্য মরিয়া দলটি ২০ মিনিটেই এগিয়ে যায়। ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো হেডে গোল করে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন। মায়ামির জার্সিতে এটিই ছিল তাঁর প্রথম গোল।
তবে মায়ামির সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৭ মিনিটে ফ্যাবিয়ান হারবার্স নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে মন্ট্রিয়েলকে সমতায় ফেরান। ম্যাচ তখন ১-১। এরপরই শুরু হয় মেসির একক নৈপুণ্যের প্রদর্শনী।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ৪০ মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে মায়ামিকে আবার এগিয়ে দেন মেসি। নিচু ও নিখুঁত বাঁকানো শটে মন্ট্রিয়েলের গোলরক্ষক থমাস গিলিয়েরকে পরাস্ত করেন তিনি। বিরতির আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নেয় মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে যেন আরও বেশি ধারালো হয়ে ওঠেন মেসি। ৫১ মিনিটে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তাঁর ব্যক্তিগত দক্ষতার সামনে মন্ট্রিয়েলের রক্ষণ তখন কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে মেসির পাস থেকে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। মেসির গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের গোলেও তাঁর অবদান ছিল। এর তিন মিনিট পর, ৮৩ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের পাস পেয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।
তাতেও থামেননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আবারও ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন তিনি। মায়ামির হয়ে আরেকটি গোল করেন অ্যালেক্স শ। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এক ম্যাচে চার গোল করার মাধ্যমে মেসি তাঁর ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো এই কীর্তি গড়লেন। তবে ইন্টার মায়ামির হয়ে এক ম্যাচে চার গোল করার ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সেলোনার হয়ে এইবারের বিপক্ষে এক ম্যাচে চারবার গোল করেছিলেন তিনি।
চলতি এমএলএস মৌসুমেও মেসির গোল করার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি ডালাসের পিটার মুসার চেয়ে মেসি এগিয়ে আছেন দুই গোলে।
এই জয়ের ফলে শুধু পাঁচ ম্যাচের জয়খরাই কাটেনি, ইস্টার্ন কনফারেন্সে নিজেদের দ্বিতীয় অবস্থানও ধরে রেখেছে ইন্টার মায়ামি। তবে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সঙ্গে ব্যবধান এখনো ১০ পয়েন্ট। ফলে বড় জয় পেলেও শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে মায়ামিকে সামনে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই মায়ামির জন্য কেবল তিন পয়েন্ট পাওয়ার লড়াই ছিল না। টানা ব্যর্থতার পর দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও বড় সুযোগ ছিল। মেসি সেই সুযোগটিকে রীতিমতো নিজের করে নিয়েছেন—চার গোল, একটি অ্যাসিস্ট এবং আক্রমণভাগে নিরন্তর চাপ দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য একাই বদলে দিয়েছেন।