ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে র্যাব সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কর্মচারীর কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রাইভেটকারে করে আসা চার ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই কর্মচারীর কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাভারের হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি উত্তরপাড়া এলাকায় রেজাউল করিমের ‘আর.কে এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনের কথা বলে গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মো. ইসরাফিল হককে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ২৬ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য পাঠানো হয়।
ইসরাফিল ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সকাল ১১টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারমুখী লেন থেকে হেঁটে সড়কের উত্তর পাশে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার এসে তার পথরোধ করে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গাড়িতে চালকসহ চারজন ছিলেন। তারা নিজেদের র্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরনে র্যাবের কটির আদলে পোশাক ছিল। এরপর তারা ইসরাফিলকে ঘিরে ধরে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ইসরাফিল টাকা দিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তার কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে ওই চার ব্যক্তি প্রাইভেটকারে করে সাভারের দিকে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
মামলার এজাহারে ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় বা ব্যবহৃত গাড়ির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শুক্রবার বিকেলে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশের তদন্তে হামলাকারীরা কীভাবে ওই কর্মচারীর গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পেরেছিল, তারা সত্যিই কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কি না এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি শনাক্ত করা যায় কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।