কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও বড়শালঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আলম হাজারী। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আলম হাজারী (৪৫) ওই গ্রামের আবুল হাসেম হাজারীর ছেলে। তিনি বড়শালঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং দেবিদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে আলম হাজারী বিএনপিতে যোগ দেন। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও তিনি এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে।
পুলিশের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলে আলম হাজারী অংশ নেন। ওই কর্মসূচিতে তার সম্পৃক্ততার পাশাপাশি মিছিলের অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগও করেছে পুলিশ।
পরে রাতে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ তার বড়শালঘরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আলম হাজারী আওয়ামী লীগের গোপন রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন বলে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, শুক্রবার বিকেলে দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া আলম হাজারীর বক্তব্য বা তার পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।