• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৫০

newsline24 / ২ Time View
Update : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৫০
হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৫০

সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১ শিশু। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫১ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। এই দুই হিসাব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানি ৯৫০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ শিশু নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৮ জন। অর্থাৎ এক দিনে হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৭১।

হাসপাতালে ভর্তির হিসাবও পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৫৪ শিশু।

১৫ মার্চ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫১ জনের। এ সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যান বলছে, কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম ও হামের উপসর্গজনিত অসুস্থতার চাপ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিপুলসংখ্যক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হওয়ায় চিকিৎসা, শয্যা, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার মধ্যে পার্থক্যটি নজরে রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, হামের উপসর্গ থাকলেই প্রতিটি মৃত্যুকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। ফলে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের গুরুত্ব রয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি ১৮ হাজারের বেশি নিশ্চিত হাম রোগী পাওয়া গেছে। এই সময়ে ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি রোগীর সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া থেকে বোঝা যায়, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক হালনাগাদ তথ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন রোগী শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা এবং মৃত্যুর সংখ্যা—সবগুলো সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করেই হাম পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু না হলেও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকছে। একই সময়ে এক হাজারের বেশি শিশুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং নতুন করে ১ হাজার ১৭১ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category