শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে আটকের প্রতিবাদে দিনাজপুরে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাওকে কেন্দ্র করে জেলার সঙ্গে আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার রাতে আটকের পর থেকে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কোতোয়ালি থানার সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেখ বাদশা দিনাজপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। শ্রমিকদের দাবি, তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক করা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁর অংশগ্রহণ ঠেকাতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কোতোয়ালি থানার গেটের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে আহত শ্রমিকদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা দিনাজপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। দশমাইল মোড়, মির্জাপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, বটতলী ট্রাক টার্মিনাল ও সাধনার মোড়সহ কয়েকটি স্থানে বাস ও ট্রাক রেখে সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় আঞ্চলিক মহাসড়কের দশমাইল ও রানীরবন্দরসহ কয়েকটি স্থানেও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে অন্যান্য জেলার বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকাগামী বাসও ছাড়ছে না।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে যারা দিনাজপুর থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য টার্মিনাল বা সড়কে এসেছিলেন, তাঁদের অনেকেই যানবাহন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আন্তজেলা যোগাযোগ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
দিনাজপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শওকত আলী তোতা বলেন, বুধবার রাত ১১টার পর থেকে বৃহস্পতিবার দিনাজপুর থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে আলোচনার মাধ্যমে এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন এই শ্রমিক নেতা। ফলে বাস চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত নয়।
দিনাজপুর ট্রাক-ট্রাকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদাকাতুল বারী সাদাও শেখ বাদশার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁরাও চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান।
শেখ বাদশাকে আটকের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন দিনাজপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সামনে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন থেকে শেখ বাদশাকে দূরে রাখতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে শেখ বাদশাকে আটকের কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁকে একটি রাজনৈতিক মামলায় আটক করা হয়েছে। তবে ওই মামলার বিস্তারিত তথ্য বা তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আটকের কারণ নিয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসায় শ্রমিকদের অভিযোগ ও পুলিশের সূত্রে পাওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে থানা ঘেরাও, সড়কে ব্যারিকেড এবং বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দিনাজপুরের স্বাভাবিক পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিক নেতা শেখ বাদশার মুক্তির দাবিতে চলমান কর্মসূচি দ্রুত শেষ না হলে এর প্রভাব আন্তজেলা যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে আরও পড়তে পারে।