• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

সেপ্টেম্বরেই গেজেট, নতুন পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

newsline24 / ১ Time View
Update : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
সেপ্টেম্বরেই গেজেট, নতুন পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
সেপ্টেম্বরেই গেজেট, নতুন পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা শেষ করে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে। মূল বেতন কতটা বাড়বে, কোন কোন ভাতা পরিবর্তন হবে এবং নতুন সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে—এসব বিষয় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ভেটিং

পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত যাচাই শেষে প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব তোলা সম্ভব হবে। এরপর দ্রুত ভেটিং ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করা গেলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য পূরণ করা যেতে পারে।

এর আগে আগস্টের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন হওয়ায় সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

জুলাই থেকে কার্যকর, অক্টোবর থেকে নতুন বেতন

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হবে। তবে গেজেট প্রকাশে সময় লাগায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত আগের কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।

নতুন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন হারে পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। ফলে ওই তিন মাসের বেতন-ভাতার পার্থক্য বকেয়া হিসেবে তৈরি হবে। পরে নিয়ম অনুযায়ী তা সমন্বয় করার সুযোগ রাখা হতে পারে।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গেজেট ও পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

আর্থিক সক্ষমতার কারণে দুই ধাপে বাস্তবায়ন

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ার বিষয়টি সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটিও তাদের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠকের পর প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যাবে। এরপর অর্থ বিভাগ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠাবে।

কমিশনের সুপারিশে কিছুটা কাটছাঁটের আভাস

পে কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। সরকারের আয়-ব্যয়, সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থাৎ কমিশনের সুপারিশই হুবহু কার্যকর হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব ওঠার পরই বেতন বৃদ্ধির হার ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ

নতুন পে-স্কেল প্রণয়নে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সুপারিশের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সমন্ব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category