• বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

দুর্গম স্কুলের শিক্ষকদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ

newsline24 / ১৯ Time View
Update : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
দুর্গম স্কুলের শিক্ষকদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ
দুর্গম স্কুলের শিক্ষকদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ

দুর্গম ও প্রতিকূল এলাকায় কর্মরত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘দুর্গম ভাতা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। নতুন নীতিমালায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘ফিডিং কর্মসূচি’ বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের দুর্গম অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, ভৌগোলিক প্রতিকূলতা এবং নানা ধরনের বাস্তব সমস্যার মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট বিদ্যালয় ও এলাকার ভিত্তিতে দুর্গম ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শুধু শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা নয়, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যাও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান তিনি। নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামো বা মডুলার বিল্ডিংয়ের মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এরই মধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে কার্যকর পদ্ধতিগুলো সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষক সংকট কমাতে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগে পরিবর্তন

বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট দেখা দেয়। তাই এমন একটি প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত না হয়।

শিক্ষকদের মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে বলে উল্লেখ করেন ববি হাজ্জাজ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাড়াও প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব পদে পর্যাপ্ত জনবল থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার কিছু চাপও কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মায়েদের সম্পৃক্ততায় রান্না করা খাবারের পরিকল্পনা

সভায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে মায়েদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয়ভাবে খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেল পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের অংশগ্রহণে খাবার রান্না ও শিশুদের মধ্যে সরবরাহের বিভিন্ন মডেল পরীক্ষা করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর কাছে নির্ধারিত সময়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির কারণে বিভিন্ন অনিয়ম কমেছে। তাই শিশুদের খাবারের মান, প্রস্তুতি ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় মায়েদের আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় যাঁরা ছিলেন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ এবং ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা সভায় অংশ নেন। সেখানে দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা, শিক্ষক সংকট, প্রশিক্ষণ, বদলি ও পদোন্নতি নীতি, বিদ্যালয়ের সহায়ক জনবল এবং শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহসহ প্রাথমিক শিক্ষার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

দুর্গম এলাকায় শিক্ষকদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে মডুলার অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু বাস্তব সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষক সংকট কমানো এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার উদ্যোগগুলোও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে সভায় গুরুত্ব পেয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category