নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর প্রায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে স্থলপথের পাশাপাশি হেলিকপ্টারসহ আকাশপথেও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন সেনাসদস্যরা। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজারাম বাসনেত বিবিসিকে জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সেনাসদস্যদের বড় অংশ পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব এলাকায় বন্যার পানির পাশাপাশি ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে আটকে পড়া তিন শ্রমিকও রয়েছেন। টানেলের মতো সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকারীদের বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপালের বেশ কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও সড়কের ওপর কাদা ও পাথর জমেছে, কোথাও ভূমিধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেসব এলাকায় স্থলপথে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আকাশপথে পৌঁছে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
তল্লাশি অভিযানে শুধু সেনাবাহিনী নয়, নেপাল পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
দুর্যোগে ১৬২ জনের মৃত্যু এবং ৪০৩ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য উদ্ধারকাজের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলো নিয়ে উদ্বেগ বেশি। সেখানে অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান করছে, অন্যদিকে দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় কাজ করার সময় উদ্ধারকারীদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
নেপালে বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে কোনো কোনো এলাকায় ভূমিধস হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এবারের দুর্যোগেও এমন পরিস্থিতি উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং দুর্গতদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই এখন উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য।