গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২টি ঝুটের গোডাউন পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে দেওয়ালিয়াবাড়ি এলাকায় আগুনের সূত্রপাতের পর মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের একের পর এক গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কোনাবাড়ী ও সারাবো ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী মেট্রো থানাধীন দেওয়ালিয়াবাড়ি এলাকায় আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়ার পলি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গোডাউনটি থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশে থাকা ঝুটের গোডাউনগুলোও দ্রুত আগুনের কবলে পড়ে। ঝুট ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তৃত হয়। একপর্যায়ে প্রায় ১২টি গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। মোট পাঁচটি ইউনিট একসঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন এক গোডাউন থেকে অন্য গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান, যাতে কোথাও আগুন বা তাপের উৎস অবশিষ্ট না থাকে।
কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে যায়। আগুনের তীব্রতার পাশাপাশি বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। পাঁচটি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্তের পর আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অসতর্কতা বা অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কর্তৃপক্ষ। তদন্তের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
অগ্নিকাণ্ডে কোনো মানুষ হতাহত না হলেও গোডাউনগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ ঝুট ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। এসব মালামালের আর্থিক মূল্য এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সংশ্লিষ্ট গোডাউন মালিকদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
কোনাবাড়ী গাজীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল।