ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামত, সংস্কার ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় এসব সড়কের উন্নয়নকাজের অনুমোদন পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে চান্দা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের প্রচেষ্টায় এসব প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ আরও সচল ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুমোদিত ৪৩টি সড়কের মধ্যে ১৪টি রয়েছে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায়। গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৬টি সড়ক। আর ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় আরও তিনটি সড়কের উন্নয়ন হবে। অর্থাৎ তিনটি প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৩টি সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে বালিয়াচরা দক্ষিণপাড়া মাদরাসা থেকে মানিকদী বটতলা পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ স্থানীয়দের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নের দাবি ছিল এলাকাবাসীর। সড়কটি পাকা হলে বালিয়াচরা, মানিকদীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চলাচল এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হবে।
অনুমোদিত সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে জানপুর আরএইচডি থেকে বাড়ইহাট জিসি হয়ে মানিকদাহ ইউপি সড়ক, পূর্ব সদরদী মাইনউদ্দিন মুন্সির খাল থেকে করম আলী খাল সড়ক, ব্রাহ্মণপাড়া আরএইচডি থেকে পাত্রাইল বাজার সড়ক এবং ভেন্নাতলী বাজার থেকে নাছিরাবাদ ইউপি হয়ে আবদুল্লাহবাদ বাজার সড়ক।
এ ছাড়া আড়ুয়াকান্দা-ভেন্নাতলী বাজার সড়ক, কালামৃধা জাইকা সড়ক থেকে দেওড়া বাজার ভূমি অফিস সড়ক, কান্দারবাড়ী আরএইচডি-কামারবাড়ী আরএইচডি হয়ে মিরাকান্দা সড়ক, শরিফাবাদ বাজার হয়ে কুমারখালী সড়ক এবং লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে লক্ষ্মীপুর ব্রিজ সড়কও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসেছে।
ফাজিলপুর জিপিএস থেকে রামদেবনগর ইউজেডআর, কালামৃধা কুমারবাড়ী ইউজেডআর থেকে আজিমনগর দেওড়া ইউএনআর, দেওড়া বাজার-গাছীবাড়ী এবং পুকুরিয়া আরএইচডি থেকে কাইচাইল ইউপি অফিস পর্যন্ত সড়কও এ তালিকায় রয়েছে।
গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২৬টি সড়কের উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে উত্তর ব্রাহ্মণপাড়া জিপিএস থেকে নাজিরপুর খাঁকান্দা আরএইচডি, হামিরদী বাসস্ট্যান্ড থেকে নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে হামিরদী হাইস্কুল এবং দক্ষিণ আখরা বটতলা থেকে নওপাড়া সড়ক রয়েছে।
বাকপুরা-বাররা হয়ে কাঠাবাড়ী জিপিএস, সুলিন বাজার-আয়ামকান্দি বাজার, মাধইয়াম (মায়ান শেখ বাড়ি) থেকে নয়ন বাজার হয়ে দিলকান্দা এবং আলগী ইউপি নলিয়া বাজার থেকে বড়দিয়া সাউথপাড়া ইউজেডআর সড়কও রয়েছে অনুমোদিত প্রকল্পে।
এ ছাড়া বালিয়াহাটি জিসি থেকে ভেন্নাতলী বাজার হয়ে সিকদারকান্দা জিপিএস, দুয়াইর বাজার থেকে বালিয়াহাটি আরএইচডি, গজারিয়া খেয়াঘাট থেকে চর মনিয়ার বাজার, পাড়ানপুর মটখোলা জংশন স্টেশন এবং মুনসরাবাদ বাজার ঘাট থেকে পুরাদিয়া ফেরিঘাট হয়ে ভেমেরকান্দা সড়ক উন্নয়নের তালিকায় রয়েছে।
জাকান্দা-লোচনগঞ্জ বাজার, চুমুরদী বাজার থেকে মোকসেদপুর বর্ডার, পাড়ানপুর দরগাখোলা জামে মসজিদ থেকে সদরপুর বর্ডার হয়ে চিত্তিয়ার বাড়ি, পাড়ানপুর-বালিয়াহাটি ২২ রশি হয়ে সুবলের বাড়ি-মাইঝাইল সড়কও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া দেওড়া আমান হাওলাদার বাড়ি থেকে দেওড়া কালাম বাড়ি, লোচনগঞ্জ বাজার থেকে কাউলিবেড়া ইউপি, মইঝাইল আরএনজিপিএস থেকে ভূপুকাজী দোকান, চুমুরদী ইউপি থেকে রায়পাড়া ইউএনআর এবং রানাগাছা হাট থেকে পুরপাড়া সড়কের উন্নয়নও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
ভাঙ্গার গ্রামীণ অর্থনীতি অনেকাংশে সড়ক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান এসব সড়ক ব্যবহার করে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এসব পথ দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। বর্ষা বা দীর্ঘদিনের ব্যবহারে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের দুর্ভোগও বাড়ে।
৪৩টি সড়কের মেরামত, সংস্কার ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে গ্রামীণ এলাকার মানুষের চলাচলে এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে প্রকল্প অনুমোদনের পর এর সুফল পেতে কাজের মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এসব অবকাঠামো দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনও কমতে পারে।
একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চান্দা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। ফলে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার অবকাঠামো উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।