ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং লোহিত সাগরের নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক করতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা। তবে রিয়াদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে ছয়জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানে সৌদি তত্ত্বাবধানে থাকা ইয়েমেনি স্থলবাহিনী প্রধান ভূমিকা পালন করবে। তাদের সহায়তায় সৌদি বিমানবাহিনী হামলা চালাতে পারে। অভিযান বড় আকার ধারণ করলে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা এতে যুক্ত হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সৌদি আরব আপাতত দুটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এর একটি হলো বাব আল-মানদেবের আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় সীমিত অভিযান। অন্যটি ইয়েমেনের একাধিক এলাকায় একযোগে বড় সামরিক অভিযান। হুতিরা সম্প্রতি লোহিত সাগরের উপকূল ধরে অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করায় সৌদি আরবের উদ্বেগ বেড়েছে।
বাব আল-মানদেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। ইতালিও সম্প্রতি বলেছে, লোহিত সাগরের নৌ চলাচল সুরক্ষায় ইউরোপীয় নৌ মিশনের বর্তমান সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
সম্ভাব্য অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ করবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিচ্ছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানও প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। পাকিস্তান সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর ঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে কর্মকর্তাদের দাবি। ফ্রান্সও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ইয়ানবু রক্ষায় প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি জানিয়েছে।
তবে সৌদি আরবের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইয়েমেনি হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর বিভক্তি। বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় বড় স্থল অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে এসব ইয়েমেনি বাহিনীর সংগঠন ও যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর।
এদিকে ইয়েমেনে সংঘাত ইতোমধ্যে নতুন করে তীব্র হয়েছে। শুক্রবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক মুখপাত্র জানান, তাইজ প্রদেশে হুতিদের অবস্থান, যোদ্ধা, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ২০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে আবারও সরাসরি উত্তেজনা বাড়ছে। ফলে বাব আল-মানদেব ঘিরে সৌদি সামরিক অভিযান শুরু হলে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে।