সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. মনিরুল ইসলামের রুকুনিয়াত (সদস্যপদ) বাতিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাড়িতে ১৮ বস্তায় ৯০০ কেজি ইউরিয়া সার মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার পর দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইউসুফ আলী। তিনি জানান, দলীয় আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনিরুল ইসলামের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি এলাকায় মনিরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা সারের মোট পরিমাণ ছিল ৯০০ কেজি।
অভিযান পরিচালনা করেন কামারখন্দের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন। অভিযানের সময় সার মজুতের অভিযোগে মনিরুল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ঘটনাটি দলীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইউসুফ আলী বলেন, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয় আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তার রুকুনিয়াত বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে দলটির সাংগঠনিক কাঠামোয় তার সদস্যপদ আর বহাল থাকছে না।
তবে অভিযোগ ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তার দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, মুঠোফোনের মাধ্যমে সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে দলীয়ভাবে তাকে এখনো কোনো লিখিত চিঠি দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পর দলীয় সিদ্ধান্তে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে, অন্যদিকে মনিরুল ইসলাম অভিযোগটি অস্বীকার করে নিজেকে ফাঁসানোর দাবি করেছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।