জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, পথশিশুদের ধীরে ধীরে পথ থেকে ঘরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের বাসাবাড়িতে কাজে নিয়োগ বন্ধে ব্যক্তিপর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (এএসডি) আয়োজনে ‘শিশুশ্রম নিয়ে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, পথশিশুদের শুধু রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। এ জন্য ধাপে ধাপে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
শিশুশ্রম বন্ধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে যেন বাসাবাড়িতে কাজে নিয়োগ দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে ব্যক্তিপর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার পেছনে দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকটসহ নানা সামাজিক বাস্তবতা কাজ করে। ফলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি বলে মত দেন তিনি।
শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার। তার ভাষ্য, শিশুরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর আইনের নানা ফাঁকফোকরের কারণে অনেক সময় অপরাধীরা বেরিয়ে যায়। শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে তাই আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি গণসচেতনতা বাড়াতে হবে।
প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। শিশুদের সুরক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, সরকারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে এনজিওগুলোর কর্মকর্তাদেরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন ছোট উদ্যোগকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। শিশু সুরক্ষা ও শিশুশ্রম মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সংলাপে শিশুশ্রম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা শিশুশ্রম পরিস্থিতি, শিশু সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে নিজেদের মতামত ও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আলোচনার মাধ্যমে শিশুদের শ্রম থেকে বের করে এনে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।