ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি আবাসিক মাদরাসার নয় বছর বয়সী এক হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আবু সাঈদ নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি ‘জিনে ধরেছে’ বলে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নান্দাইল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চন্ডীপাশা গোরস্থানসংলগ্ন বাইতুর রাসূল (সা.) মাদরাসার সামনে জড়ো হন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা মাদরাসাটি ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অভিযুক্তের বাড়ি নান্দাইল উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামে।
ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা জানান, সে ইতোমধ্যে পবিত্র কোরআনের ছয় পারা মুখস্থ করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে পড়াশোনা করে ঘুমিয়ে পড়ে শিশুটি। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় শিক্ষক আবু সাঈদ তাকে ঘুম থেকে ডেকে পাশের একটি বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে ছুটে আসে। তখন আবু সাঈদ ‘জিনে ধরেছে’ বলে তাদের সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
পরে শনিবার বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তার বাবাকে ডেকে পাঠায়। বাবা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে ফেরার পর শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানায়। বর্তমানে সে প্রচণ্ড জ্বরে অসুস্থ হয়ে গ্রামের বাড়িতে শয্যাশায়ী রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
রোববার সকালে শিশুটির বাবা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের খোঁজ করেন। তখন অন্য শিক্ষকরা তাকে জানান, আবু সাঈদ ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মাদরাসার পরিচালক বিল্লাল জানান, বিষয়টি নিয়ে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভ দেখা দেয়।
এদিকে, শিশুটির বাবা মামলার প্রস্তুতি নিয়ে নান্দাইল উপজেলা সদরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।