• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

দিল্লিতে বিক্ষোভ, ৭০০ জনের বেশি আটক; বন্ধ ইন্টারনেট

newsline24 / ১৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
দিল্লিতে বিক্ষোভ, ৭০০ জনের বেশি আটক; বন্ধ ইন্টারনেট
দিল্লিতে বিক্ষোভ, ৭০০ জনের বেশি আটক; বন্ধ ইন্টারনেট

ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গণহারে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুলিশ ৭০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর এবং এর দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ জন্য এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও এবং ভোডাফোন আইডিয়ার মতো টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্র জানিয়েছে।

তবে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দিল্লি সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। এআইএসএ, এসএফআই ও এনএসইউআইসহ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটছে এবং এতে ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পিটিআই পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অভিযান চালায় এবং যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে।

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত জুলাইয়ে যন্তর মন্তর এবং মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে সময় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একটি আন্দোলন চলছিল।

প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে আবারও দিল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলো। শুক্রবারের কর্মসূচিতে একদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক আটকের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ এবং এর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আটকের সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category