• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ফিরতে চায় তেহরান

newsline24 / ১৩ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ফিরতে চায় তেহরান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ফিরতে চায় তেহরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত জুনে হওয়া সমঝোতায় ফিরে যেতে চায় ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আগের সমঝোতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার গুরুত্ব দেখছে তেহরান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান চীনের অবস্থানকে স্বাগত জানান। চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগের সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানও এই অবস্থানকে সমর্থন করে এবং ওই সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে।

এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি একই ধরনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তবে এর পরদিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না। তবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থাৎ একদিকে তেহরান আলোচনার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে সামরিক চাপের মুখে কোনো ধরনের আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা নাকচ করছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত জুনের সমঝোতার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু সমঝোতা হওয়ার পরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা থেকে বড় কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উল্লেখযোগ্য সমঝোতার ঘোষণা আসেনি।

পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে অবশ্য আলোচনার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি আগের সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো বড়। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। ফলে আগের সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করতে হলে উভয় পক্ষকেই কঠিন কিছু বিষয়ে নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

চীনের সমর্থন এবং ইরানের পক্ষ থেকে আগের সমঝোতায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশের পর এখন কূটনৈতিক তৎপরতা কোন দিকে এগোয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ বন্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনায় বসে কি না, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category