জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়, বরং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এই দায়িত্বকে ক্ষমতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জনগণের প্রয়োজন মেটানো, তাদের দুর্ভোগ কমানো এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন দুর্যোগ, সংকট ও রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় বিএনপি জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও দলটি ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণেই বিভিন্ন সময়ে মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছে।
বিএনপির এই নেতা দলের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারির পরও বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অর্থনীতি যখন চাপে পড়েছে, তখন তা পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের জন্য বিএনপি ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকারও অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’কে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবে রাখা হয়েছিল। ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সহায়তা এবং কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও বাজারজাতকরণে সহায়তার কথা বলা হয়।
নজরুল ইসলাম খান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে বাধা তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার ধরন নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, সরকারের কোনো কর্মসূচিতে সমস্যা থাকলে শুধু বিরোধিতা না করে সেই সমস্যার পাশাপাশি কার্যকর বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া উচিত। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি কীভাবে এগুলো আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করলে জনগণের কোনো উপকার হয় না। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাস, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে নজরুল ইসলাম খান এর আগেও দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘ সময় যথাযথভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা সম্ভব না হওয়ার পর ওই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার পূরণ হয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।