বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে একসময় বিএনপির হাতেই বিএনপির ক্ষতি হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম লিখেছেন, ‘যে হারে শুরু করেছে…কিছুদিন পর বিএনপি বিএনপির ঘর লুট করবে, জমি দখল করবে, দোকানে চাঁদাবাজি করবে, রক্ত ঝরাবে, জীবন নেবে!’
তার এই বক্তব্যে মূলত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লুটপাট, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, ঘটনা, এলাকা বা অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেননি। ফলে মন্তব্যগুলোকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সারজিস আলম এর আগেও বিএনপিকে ঘিরে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ‘নতুন হাওয়া ভবন’ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। একই পোস্টে তিনি ‘হাজার কোটি টাকা’ লুটপাটের অভিযোগ তোলেন এবং দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের অর্থ শোষণের কথাও উল্লেখ করেন।
ওই বক্তব্যের সময় দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান করেছে বলেও সরকারি ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
এর কয়েক দিন পর আবার বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়ে সারজিস আলমের নতুন মন্তব্য সামনে এলো। এবারের পোস্টে তিনি দলটির অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে লুটপাট, দখল, চাঁদাবাজি ও প্রাণহানির মতো বিষয় তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দলের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে পরস্পরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে থাকেন। সারজিস আলমের সাম্প্রতিক পোস্টও সেই ধারার একটি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে। তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে পোস্টে পৃথক কোনো প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ নেই।