ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি ধীর হয়ে আসার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৪৩ ডলার বা ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৫ দশমিক ৫১ ডলারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭৪ ডলার বা ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে ওঠে।
দিনের শুরুতে অবশ্য তেলের দাম আরও দ্রুত গতিতে বেড়েছিল। ওই সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছে যায়। পরে কিছুটা কমলেও আগের তুলনায় দাম উল্লেখযোগ্যভাবে উঁচু অবস্থানে ছিল।
তেলের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার গতি কমে যাওয়া। ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রকাশ্যে জানানো দাবিগুলো পূরণের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে—এমন খবর প্রকাশের পর বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। সেই আশঙ্কার প্রতিফলনই দ্রুত দামের ওঠানামায় দেখা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি নীতি নিয়েও বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে—এমন আশঙ্কা জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহে বড় কোনো পরিবর্তন হলে বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে বাজার বিশ্লেষকদের নজর মূলত দুটি বিষয়ের দিকে। প্রথমত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনা কোন দিকে এগোয়। দ্বিতীয়ত, ডিজেল রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়। এসব বিষয়ে নতুন কোনো ঘোষণা এলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এমন ওঠানামা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন অংশে জ্বালানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে দামের এই ঊর্ধ্বগতি কতটা স্থায়ী হয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জ্বালানি আমদানি ও মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থার ওপর।