পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, নৈতিক শিক্ষা ছাড়া শুধু পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করলে তা অনেক সময় সমাজের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়; বরং মানুষের চিন্তাশক্তির বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখানো।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত স্কাউট সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা ও নৈতিকতার সম্পর্ক তুলে ধরে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বই পড়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা তৈরি হওয়া জরুরি। পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার চর্চাও শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষা মানুষকে শুধু তথ্য জানায় না, বরং সত্য-মিথ্যা যাচাই করার সক্ষমতা তৈরি করে এবং সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কীভাবে ভূমিকা রাখা যায়, সে বোধও জাগিয়ে তোলে।
স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্কাউটদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে বর্তমান প্রজন্মকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থকে গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সম্মান পাওয়া কঠিন হবে। এখনকার সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের প্রভাব আগামী দিনের সমাজ ও মানুষের ওপর পড়বে—তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সবার।
তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির গণ্ডির বাইরে থেকেও সামাজিক, ধর্মীয়, ক্রীড়া ও মানবিক বিভিন্ন উদ্যোগে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এতে তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডেও তাদের শক্তি কাজে লাগানো যাবে।
তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার বিষয়টিও বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছায়া থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তরুণদের সঠিক পথে রাখতে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানবিক কাজে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউসুফ, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মঞ্জুরুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসা এবং সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাঈন উদ্দিন পাঠানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।