• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

মধুখালীতে ধানখেতের পাশে বস্তায় মিলল ছয় টুকরো মরদেহ

newsline24 / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মধুখালীতে ধানখেতের পাশে বস্তায় মিলল ছয় টুকরো মরদেহ
মধুখালীতে ধানখেতের পাশে বস্তায় মিলল ছয় টুকরো মরদেহ

ফরিদপুরের মধুখালীতে ধানখেতের পাশ থেকে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা এক অজ্ঞাত পুরুষের ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুখ বাঁধা অবস্থায় বস্তাগুলো পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাগুলো খুলে মরদেহের বিচ্ছিন্ন অংশগুলো উদ্ধার করে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে মহাসড়কের পাশে লাভলু মল্লিক ও ইসহাক মিয়ার ধানখেত রয়েছে। ওই ধানখেতের পাশে একটি তালগাছের গোড়ায় তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় পথচারীরা। বস্তাগুলোর মুখ শক্ত করে বাঁধা ছিল। অস্বাভাবিকভাবে পড়ে থাকা বস্তাগুলো দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ বস্তাগুলোর মুখ খুললে ভেতর থেকে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পুরুষের মরদেহের ছয়টি বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বিচ্ছিন্ন অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তিনি কোথাকার বাসিন্দা, কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা হত্যার পর কারা মরদেহটি টুকরো করে বস্তাবন্দি করে মহাসড়কের পাশে ফেলে গেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে ময়নাতদন্ত শেষে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, কোথায় এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category