• সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

টিবি হাসপাতাল হবে জাতীয় যক্ষ্মা ইনস্টিটিউট

newsline24 / ৯ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
টিবি হাসপাতাল হবে জাতীয় যক্ষ্মা ইনস্টিটিউট
টিবি হাসপাতাল হবে জাতীয় যক্ষ্মা ইনস্টিটিউট

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালকে শিগগিরই জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শ্যামলীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় ববি হাজ্জাজ বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালটিকে একটি আধুনিক ও সমন্বিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যক্ষ্মা শনাক্তকরণ, চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী জানান, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেসব পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, পর্যাপ্ত জনবল ছাড়া হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা কঠিন।

রোগীদের মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী বা তাঁর স্বজন যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তিতে না পড়েন, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

হাসপাতালের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২৫০ শয্যার বর্তমান সক্ষমতার পাশাপাশি ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। এতে ভবিষ্যতে আরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফুটপাতের দখল সরিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগীদের চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে তাঁরা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং তাঁদের প্রত্যাশা কী—সেসব বিষয়ও শোনেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনের সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন ববি হাজ্জাজ। চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও উপপরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সভায় অংশ নেন।

হাসপাতালটি জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি যক্ষ্মা বিষয়ে রোগ নির্ণয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একই প্রতিষ্ঠানের আওতায় আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন ভবন ও জনবল নিয়োগ বাস্তবায়ন হলে হাসপাতালের সেবার পরিধিও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category