গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত রাহুল নামে এক ব্যক্তিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। তাকে টঙ্গীর কেরানীরটেক এলাকার মাদক বস্তি থেকে আটক করা হয়। পরে হাতকড়া পরিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুলিশের ভাষ্য, রাহুলকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা দিয়ে থানায় নেওয়ার সময় একদল ব্যক্তি পুলিশের গতিরোধ করে হামলা চালায়। তারা রেললাইন থেকে পাথর কুড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে একের পর এক ছুড়তে থাকে। আকস্মিক এ হামলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।
পাথরের আঘাতে কনস্টেবল মাসুদ আহত হন। হামলার একপর্যায়ে তিনি আহত হয়ে পড়লে হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ রাহুলকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্টেশন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই হাতকড়াটি উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর ছিনিয়ে নেওয়া আসামি রাহুলকে উদ্ধারে এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য রাতেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাহুলকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত রাহুলকে গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের ওপর রেললাইনের পাথর ছুড়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করছিল। এতে কনস্টেবল মাসুদ আহত হন। সেই সুযোগে তারা হাতকড়াসহ রাহুলকে ছিনিয়ে নেয়।
ওসি আরও বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে উদ্ধারের পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত একজন আসামি কীভাবে পুলিশের কাছ থেকে হামলাকারীদের সহায়তায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।