দেশে আবারও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির এই পরিকল্পনার ফলে দীর্ঘদিন পর আবারও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ দেশের গ্রামীণ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা, বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংযোগ তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনই আপাতত ভিত্তি হিসেবে থাকছে। আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আইন বা সংশোধনী কার্যকর না হলে বর্তমানে প্রচলিত আইন অনুসারেই নির্বাচন পরিচালনা করবে কমিশন।
অর্থাৎ, নির্বাচন আয়োজনের আগে আইন পরিবর্তন না হলেও ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশন বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুসরণ করবে। এতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনগত বা কার্যগত জটিলতা তৈরি হবে না বলেও জানান তিনি।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একসঙ্গে সারা দেশে না করে কয়েকটি ধাপে আয়োজন করা হবে। কোন কোন এলাকায় কখন ভোট হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী তফসিলের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কার্যক্রম শুরুর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ধীরে ধীরে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি বাড়বে। নির্বাচন কমিশনের জন্যও এটি হবে একটি বড় ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করে ভোট আয়োজন করতে হবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন এখনো নির্দিষ্ট কোনো ইউনিয়নের ভোটের তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে কোন ধাপে কোন এলাকার নির্বাচন হবে, সেটি পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট হবে।
বর্তমান পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইসি এবং সেই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রাখা হয়েছে।