গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক কলেজছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব জাহিদ মুন্সির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনসেফপুর গ্রামের জাকির মিস্ত্রির ছেলে জাহিদ মুন্সির দোকানে ঘড়ি কিনতে যান সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী। সেখানেই জাহিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই কলেজছাত্রীকে একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যান জাহিদ। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মিরের বাজারের একটি গেস্ট হাউস, বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট এবং সরকারি শ্রমিক কলেজের পেছনে রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টারসহ কয়েকটি স্থানে নিয়ে ওই কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর ভুক্তভোগী জাহিদ মুন্সিকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী তার বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে জাহিদ মুন্সির বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, জাহিদ এরই মধ্যে একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। এরপর ভুক্তভোগীর বড় বোন কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে জাহিদ মুন্সির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জাহিদ মুন্সির বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার পক্ষের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।