• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্তের

newsline24 / ১৯ Time View
Update : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্তের
পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্তের

ভারতের আসামের গৌহাটি শহরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহের বিচ্ছিন্ন অংশ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দেওয়ার পর। নিহত ব্যক্তির নাম রামানুজ গোস্বামী (৩০)।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে চিকিৎসা পরীক্ষার পর রামানুজকে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ) থেকে হাতিগাঁও থানায় নেওয়া হচ্ছিল। পথে নারকাসুর পাহাড় এলাকায় হঠাৎ তিনি পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি।

গাড়ি থেকে পড়ে রামানুজ পাহাড়ি এলাকার একটি গভীর খাদে গিয়ে পড়েন। এতে গুরুতর আহত হলে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রামানুজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ৩ সেপ্টেম্বর গৌহাটির একটি ফ্ল্যাটে তিনি তার স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে (২৫) হত্যা করেন। পরে মরদেহের বিচ্ছিন্ন মাথা ও আঙুল একটি কালো পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রেখেছিলেন।

ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের নজরে আসে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের ফ্রিজ থেকে ওই পলিথিনের ব্যাগ উদ্ধার করে এবং এর ভেতরে রিয়ার কাটা মাথা ও আঙুল পাওয়া যায় বলে জানায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত—এমন সন্দেহ থেকেই রামানুজ তাকে হত্যা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি দা উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই অস্ত্র দিয়েই রিয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার কয়েক দিন পর ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ঘটনাস্থলে নেওয়ার পরও রামানুজের মধ্যে হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি বলেও কর্মকর্তারা জানান।

তদন্তকারীরা আরও বলেন, রামানুজ এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর ‘সুগার ড্যাডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ওই ব্যক্তিকেও হত্যা করার হুমকি দিয়েছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

জিজ্ঞাসাবাদে রামানুজ হত্যার সময় মদ্যপ ছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানায়। তার ফ্ল্যাট থেকে খালি মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে রামানুজের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির ইতিহাস থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও গোপন করেছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে আর্থিক প্রতারণার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও তারা জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, পরিবারের উত্থাপিত এসব অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে স্ত্রী হত্যার মামলায় অভিযুক্ত রামানুজের আকস্মিক মৃত্যুর ফলে তদন্তের পরবর্তী ধাপ এখন নতুন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তাঁর গাড়ি থেকে লাফ দেওয়ার ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং এ সময় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category