জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে বসতঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, নিহত শিশুটি অভিযুক্ত জামিনুর ইসলামের মেয়ের সহপাঠী ছিল। এ ঘটনায় জামিনুর ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিদ্যালয়ের কাছেই ছিল তার সহপাঠীর বাড়ি। পরিচিত হওয়ায় সেদিন শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে তার মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যায়।
ওই সময় বাড়িতে জামিনুর ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী সবুজা (২৫) সন্তানদের নিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে রান্নার কাজে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই সুযোগে জামিনুর শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরে শনিবার রাতে জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
রোববার রাতে মাদারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জামিনুর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে জামিনুরের মেয়ের বন্ধুত্ব ছিল। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে এবং জামিনুরের বাড়িতে গিয়ে সে তাঁর মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত। সেই পরিচিতির কারণেই শিশুটি কোনো ধরনের আশঙ্কা ছাড়াই ওই বাড়িতে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর শনিবার রাতেই জামিনুর ও তাঁর স্ত্রী সবুজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে দুজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শিশুটির মামা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর সঙ্গে এমন নির্মম ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এখন দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।
এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একটি শিশুর নিরাপত্তা ও পরিচিতজনদের প্রতি পরিবারের যে স্বাভাবিক আস্থা থাকে, এমন ঘটনা সেই আস্থাকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা, হত্যার পেছনের পরিস্থিতি এবং মরদেহ গোপনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এখন মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।