জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দোকানের মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে নজরুল হলসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দোকানগুলো ভৌগোলিকভাবে নজরুল হলের সামনে হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা সেগুলোর মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করে আসছিলেন।
অন্যদিকে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরাও দোকানগুলোর মালিকানা ছাড়তে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সোমবার সেই বিরোধই সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেন। পরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, দুই হলের শিক্ষার্থীদের বর্তমানে নিজ নিজ হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। দোকানগুলোর মালিকানা নিয়ে দুই হলের প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সময়ে আলোচনায় বসবে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির একটি যৌক্তিক সমাধান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও দোকানগুলোর মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সমাধান হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের দুই হলে ফেরানোর পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও দোকানগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে ফের উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ওপরই এখন নজর রয়েছে।