সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন পথচারীসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য তাদের কাছে নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলেজের নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পৃথকভাবে মিছিল বের করে। মিছিল দুটি গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় মুখোমুখি হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
হঠাৎ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সড়কে থাকা সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কয়েকজন পথচারীও আঘাত পান।
সংঘর্ষের প্রভাব পড়ে সড়ক যোগাযোগেও। ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ একই সময়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুই মিছিল মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তবে সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। স্থানীয়রা প্রায় ৪০ জন আহত হওয়ার কথা বললেও পুলিশ কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়ার কথা জানায়নি।
ছাতক থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ভক্ত চন্দ্র দত্ত বলেন, মিছিল দুটি মুখোমুখি হওয়ার পর কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার পর কলেজ ও গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। নবীনবরণকে কেন্দ্র করে এমন সংঘাত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।