পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককেও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার স্বরূপনগরের দহরকান্দ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি হলেন জয় বারুই ও বৈশাখী বারুই। তারা বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। আর অভিযুক্ত সেনাসদস্যের নাম গৌতম অধিকারী। তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার মগরা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে রাজস্থানের যোধপুরে কর্মরত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বিথারি-হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন জয় ও বৈশাখী। এ সময় সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে তাদের স্বরূপনগর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গৌতম অধিকারীর নাম সামনে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশে তিনি সহায়তা করে থাকতে পারেন। তবে ঠিক কীভাবে তিনি সহায়তা করেছেন এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে তদন্তে নেমেছে স্বরূপনগর থানার পুলিশ। তিনজনের বিরুদ্ধেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। সীমান্ত পারাপারের এই ঘটনায় আরও কোনো ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্রের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশি নাগরিক কী উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এবং সেনাসদস্যের কথিত ভূমিকা ঠিক কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিস্তারিত কারণ ও তার কথিত ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।