কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক কেজি গাঁজাসহ বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউরিয়ার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন খন্দকার ময়েজ উদ্দিন (৭৭) ও তার ছেলে মেহেদী হাসান (৩৩)। বুধবার রাতে তাদের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা উদ্ধারের পর গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে কুমারখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল যৌথভাবে ময়েজ উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ময়েজ উদ্দিন ও তার ছেলে মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কুমারখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চারটি মামলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি এলাকায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর বড় পরিসরে বিভিন্ন আয়োজন হয়ে থাকে। এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। স্থানীয়ভাবে এসব অনুষ্ঠান ঘিরে মাদকের কারবারের অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে থাকে।
বুধবারের অভিযানের পর পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুমারখালী থানায় মামলা করে। মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বাবা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে এক কেজি গাঁজাসহ ময়েজ উদ্দিন ও তার ছেলে মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করেছেন। ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় আগে থেকেই চারটি মাদক মামলা রয়েছে।
ওসি জামাল উদ্দিন আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সামনে লালন মেলা উপলক্ষে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন লালন মেলাকে ঘিরে মাদক সরবরাহ ও সেবন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে