অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে রোববার সকালে প্রায় ৫৭০ ইসরাইলি সেটেলার প্রবেশ করেছে। ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায় তারা মসজিদের আঙিনায় প্রবেশ করে তালমুদিক ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা পালন করে। ঘটনাটি ইহুদিদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ‘ইয়োম কিপুর’ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল থেকে দলে দলে সেটেলাররা আল-আকসার দিকে জড়ো হতে থাকে। তাদের একটি অংশ মাগরিবি গেট দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। এ সময় ইসরাইলি পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে। মসজিদের ভেতরে প্রবেশের পর কয়েকজন তালমুদিক প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালন করে।
আল-আকসায় প্রবেশের আগে ফজরের সময়ও মসজিদের বাইরের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েকজন সেটেলার বাব আল-রাহমাহ বা রহমতের গেটের বাইরের অংশে জড়ো হয়ে প্রার্থনা করেন। এসব কর্মকাণ্ড ইহুদিদের ‘ইয়োম কিপুর’ উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।
এই ঘটনার এক দিন আগে, শনিবার রাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্ত্রী সারা ও সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে জেরুজালেমের পুরোনো শহরের পশ্চিম দেয়াল বা ওয়েস্টার্ন ওয়াল এলাকায় যান। সেখানে ‘স্লিহোট’ নামের প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ওই সময় এলাকাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ইহুদিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন ‘ইয়োম কিপুর’ রোববার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। এ উপলক্ষে জেরুজালেমে ধর্মীয় সমাবেশ ও নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে আল-আকসাকে ঘিরে সেটেলারদের তৎপরতাও বেড়েছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় আল-আকসায় সেটেলারদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনা বাড়ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৬৬১ জন সেটেলার আল-আকসায় প্রবেশ করেছে বলে জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য উদ্ধৃত করে ফিলিস্তিনি মিডিয়া জানিয়েছে। শুধু আগস্টেই এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২০৯।
রোববারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আল-আকসা ও এর আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও পবিত্র স্থানগুলোতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সূত্রে।