• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় জনতার বিক্ষোভ

newsline24 / ১৮ Time View
Update : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় জনতার বিক্ষোভ
কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় জনতার বিক্ষোভ

পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন স্থানীয়রা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এসব কর্মসূচিতে কলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।

সকালে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও আদালত চত্বর এলাকায় গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে বক্তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার চার্জশিট দাখিল এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কলির মতো একটি শিশুকে যারা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। মামলাটি যেন দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে, সে জন্য দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে অপরাধীদের ফাঁসির দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় কলি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা কামাল প্রামাণিক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের সাত দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, পুলিশের তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কলিকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর স্বজন ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনেও আসামিরা উপস্থিত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে গত শুক্রবার ও শনিবার ক্ষুব্ধ জনতা মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইনের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category