সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্য কোনো হামলা বা হতাহতের ঘটনা সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
রোববার এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি জ্বালানি ট্যাংক থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এ ঘটনার পর বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। একই দিনে হুথিদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি রাজধানীতে প্রথমবারের মতো বিমান হামলার সতর্কসংকেতও বেজে ওঠে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবু শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো ‘শত্রুতামূলক হামলার চেষ্টা’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারিয়া দাবি করেছেন, রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ এবং উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আল-সারিয়া এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টি হামলা চালিয়েছে। তবে এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
হুথিদের হামলার মাত্রা গত জুলাই থেকে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের আকাশে একটি সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে সংগঠনটি।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল ও অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে সৌদি আরব ও আশপাশের অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুথিদের দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি আরব। ফলে দুই পক্ষের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব সৌদি ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে।