ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামালসহ একাধিক তারকার নাম আলোচনায় থাকলেও লিওনেল মেসিকেই এবারের পুরস্কারের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার মনে করছেন তার ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল। আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডারের মতে, ৩৯ বছর বয়সে মেসি যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে দিয়েছে।
ডি পলের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। তবে পুরো আসরে মেসি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান পারফর্মার। আট ম্যাচে তিনি করেছেন ৮ গোল এবং দিয়েছেন ৪টি অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপের প্রায় পুরোটা সময়ই গোল বা গোলের সহায়তায় অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। মেসি শিরোপা নিয়ে ফিরতে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল অবশ্য স্পেনের রদ্রির হাতে ওঠে। ফলে মেসির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সকে ঘিরে পুরস্কার-আলোচনায় ভিন্নমতও রয়েছে।
এবারের ব্যালন ডি’অর দৌড়ে মেসির পাশাপাশি এমবাপ্পে ও ইয়ামালের নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে সতীর্থ ডি পলের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। তার মতে, বিশ্বকাপে মেসির অর্জন এবং ৩৯ বছর বয়সে সেই পারফরম্যান্স দেখানোর বিষয়টি অন্য যেকোনো তুলনার বাইরে।
ডি পল বলেন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে মেসি এমন কিছু করেছেন, যা আগে কেউ করতে পারেননি। বিভিন্ন প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মেসির ক্ষেত্রে ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিতর্কের খুব বেশি সুযোগ নেই।
ক্লাব ফুটবলেও ২০২৬ সালে মেসির পথচলা থামেনি। ১৭ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইন্টার মায়ামি ক্যাম্পেওনেস কাপ জেতে। ওই ম্যাচে মেসি ২৪ মিনিটে গোল করে ইন্টার মায়ামির হয়ে নিজের ১০০তম গোল পূর্ণ করেন। ১১৫তম ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। পরে ক্যাসেমিরোর গোলে মায়ামি জয় নিশ্চিত করে।
ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসি দলটির হয়ে লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড, এমএলএস কাপ এবং ২০২৬ ক্যাম্পেওনেস কাপ জিতেছেন। তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে এর আগে থেকেই রয়েছে আটটি ব্যালন ডি’অর—২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালের পুরস্কার।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার ঘোষণা হবে ২৬ অক্টোবর লন্ডনে। মেসি এবারও মনোনীতদের তালিকায় রয়েছেন। অর্থাৎ, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি নবমবারের মতো তার হাতে উঠবে কি না, সেই উত্তর পেতে এখন অপেক্ষা করতে হবে ঘোষণার দিন পর্যন্ত।
ডি পল অবশ্য ফল ঘোষণার আগেই নিজের পছন্দ জানিয়ে দিয়েছেন। তার চোখে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স, বয়স এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক সাফল্য—সব মিলিয়ে এবারও ব্যালন ডি’অরের দাবিদার মেসিই।