আগামী বছরের জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে কমিশন।
ইসি মাছউদ বলেন, প্রাথমিকভাবে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই সময়ে স্কুল-কলেজে পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং শিক্ষকদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। এসব কারণে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনায় সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল। ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনাও জানানো হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনার পর সময়সূচি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দেয়।
নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন জানুয়ারিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ভোটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরই তফসিল ও ভোটের সময়সূচি স্পষ্ট হবে।
ইসি মাছউদ আরও জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। অর্থাৎ জানুয়ারিতে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও সেটিকে এখনই নির্ধারিত সময়সূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যে সংলাপের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা ছিল। এর আগে কমিশন এ আলোচনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর কথা থাকলেও সময়সূচি নিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কমিশন এখন নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে। এর আগে ইসি জানিয়েছিল, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে; তবে পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসবসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হবে।
ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো—নভেম্বরে শুরু করার আগের পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে। জানুয়ারিতে ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তফসিল ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।