• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ ১১ অক্টোবর

newsline24 / ১৩ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ ১১ অক্টোবর
মুগ্ধসহ ১১ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ ১১ অক্টোবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ অসুস্থ থাকায় নির্ধারিত দিনে আদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে মামলাটির অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার জন্য ২০ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১-এ দিন ধার্য ছিল। পরে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন নির্ধারিত হয়েছিল।

মামলায় মোট ২৬ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

বাকি ১৮ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর এবং উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী। তালিকায় আরও রয়েছেন উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অন্যরা।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলন দমনে গুলি চালানো হয়। ওই ঘটনায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন। একই ঘটনায় উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের একটি এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আবারও গুলি চালানো হলে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়েসহ চারজন নিহত হন। রাইসুল রহমান রাতুলকে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের এসব ঘটনা পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ। এখন ১১ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ হওয়ার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category