• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাভারে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ: শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত পলাতক দ্রব্যমূল্য-জ্বালানি সংকট: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ চান নাহিদ ‘হুমকি দিয়ে দমাতে পারবে না’, শিক্ষককে চড় মারা রুমির বার্তা এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে ছয় নারী যুগ্ম আহ্বায়ক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠানে বিরোধীদের অনুপস্থিতি, ধোঁকাবাজি বললেন প্রতিমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, ফিরোজার পরিবারকে ৫ লাখ টাকার সহায়তা সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি, মৃত্যুদণ্ডের নথি চাইল ঢাকা সিসিইউতে মঈন খান, হাসপাতালে ছুটে গেলেন রাষ্ট্রপতি ইউরোপে তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু অবসরের পর এক বছর ফুটবল থেকেও দূরে থাকতে চান নেইমার

সাভারে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ: শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত পলাতক

newsline24 / ১৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
সাভারে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত পলাতক
সাভারে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত পলাতক

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তা ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী এবং মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল বারীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার’ একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করেন।

এজাহারে যা বলা হয়েছে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার সকালে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রাখতে তাঁর স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহর মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রীটিকে মাদ্রাসার ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং কাউকে ঘটনা জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।

পরে মাদ্রাসার রান্নাবান্নার কাজে নিয়োজিত এক নারীর সহায়তায় সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরে মেয়েটি। বাড়িতে ফিরে সে তার দাদাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবারের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

মাদ্রাসা ও বাসভবনে ভাঙচুর, পুলিশের বাধার মুখে উদ্ধার অভিযান

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার রাতে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসভবন ঘেরাও করে। এ সময় আব্দুল বারীর স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে জানা গেছে।

একপর্যায়ে রাত ৭টার দিকে মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাসভবনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্য, তোহফাতুল জান্নাহ ও তাঁর ছোট ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান অন্য ছাত্রীদের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেছেন, আব্দুল বারীর স্ত্রী নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে মাদ্রাসার ছাত্রীদের তাঁর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর জন্য চাপ দিতেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পুলিশ জানিয়েছে, তোহফাতুল জান্নাহর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার ধরন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলায় তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল বারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনায় তাঁর স্ত্রীর ভূমিকা কী ছিল, তা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৩ বছর বয়সী শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তাকে আটকে রাখা ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category