শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় শাহেদ আহম্মেদ নিহত হন। শুক্রবার সকাল ৮টার পর তাঁর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলী। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
শাহেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রাণহানির বিষয়টিও সামনে আসে। জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া এসব কর্মীর নিরাপত্তা, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে শামা ওবায়েদ জানান, ঘটনাটি নিয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়া গেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। ঠিক কী অভিযোগে তাঁদের সাজা হয়েছিল, বিচারপ্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও কী তথ্য রয়েছে, তা জানতে প্রয়োজনীয় নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের দণ্ডে দণ্ডিত ও কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের তালিকা পাঠায়। ওই তালিকায় সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ সরকার।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য সংগ্রহ করা এবং ঘটনার প্রকৃত বিবরণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের কাছ থেকে চাওয়া নথি পাওয়ার পরই বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে
শামা ওবায়েদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মেদ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শাহেদের মরদেহ শুক্রবার দেশে এসেছে। বাকি দুই বাংলাদেশির মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও হামলার পরিস্থিতিতে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশি কর্মীদের একটি বড় অংশ জীবিকার প্রয়োজনে এসব দেশে অবস্থান করেন। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো দুর্ঘটনা বা হামলায় প্রাণহানি ঘটলে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিদেশে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হলে তাঁর পরিবারের জন্য মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা ও তথ্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ হস্তান্তর এবং অন্য দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানিয়ে সরকার এ বিষয়ে কাজ চলার কথা তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের কারাগারে থাকা প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে এসব বন্দির মধ্যে কতজন কোন ধরনের অভিযোগে আটক রয়েছেন, কতজন সাজাপ্রাপ্ত এবং তাঁদের মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা কী—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি দেননি।
সৌদি আরবে আটক বাংলাদেশিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, তাঁদের মামলার অবস্থা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় জড়িত দুই নাগরিকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।