জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন।
‘নেচার হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। ২০০৩ ও ২০২২ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের তুলনায়ও এ সংখ্যা ৭০ শতাংশের বেশি।
দেশভিত্তিক হিসাবে, ইতালিতে তাপজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৩০৩। ফ্রান্সে ৭ হাজার ২৬৮, স্পেনে ৬ হাজার ৮২৪, জার্মানিতে ৬ হাজার ৩৪০ এবং যুক্তরাজ্যে আনুমানিক ৪ হাজার ৩৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপের ৮৫৪টি শহরে অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৬১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৭ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের সময়ই গ্রীষ্মের মোট তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটে। পশ্চিম ইউরোপে তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। গবেষকদের হিসাবে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ৫০২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশ। তবে ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাড়ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা ত্বরান্বিত করছে। তাপপ্রবাহের ক্ষতি কমাতে শহরে সবুজ এলাকা বাড়ানো, শীতল আশ্রয়ের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি।
গবেষণায় শুধু শহরাঞ্চলের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ইউরোপে তাপজনিত মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে প্রাণহানি কমাতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন দ্রুত কমানোর পাশাপাশি তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে।