শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক সেতুর সামনে গোপীনাথপুর এলাকায় নিহত ফিরোজার পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ফিরোজার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের জন্য বিআরটিএর মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চেক হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল ইসলাম সীমান্তসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বেগম। তিনি ওই এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে তাঁর নির্বাচনি এলাকা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন স্ত্রী নাজমা আরা বেগম। নিরাপত্তার দায়িত্বে তাঁদের গাড়ির সঙ্গে পুলিশের একটি গাড়িও ছিল।
পথে গোপীনাথপুর এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজা বেগম মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রীর বহরের সরকারি গাড়িটির সামনে চলে আসেন। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে গাড়িটি সড়কের পাশের একটি ধানখেতে নেমে যায়। দুর্ঘটনায় ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন। প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী ও তাঁর স্ত্রী নাজমা আরা বেগমও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহত ফিরোজা বেগমকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী নাজমা আরা বেগম জানিয়েছিলেন, ফিরোজা বেগমকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান এবং গাড়িটি সড়কের পাশের ধানখেতে নেমে যায়।
সড়ক দুর্ঘটনায় ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার একজন স্বজনকে হারিয়েছে। বিআরটিএর পক্ষ থেকে দেওয়া পাঁচ লাখ টাকার এই সহায়তা দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিস্থিতি বা এ ঘটনায় অন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।