কক্সবাজারের উখিয়ায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে ৫০ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়। পুলিশের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে কুতুপালং বাজারের দিকে নেওয়ার সময় এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা সুলতান আহম্মদের ছেলে মো. ইসমাইল (৪০), কুতুপালং ক্যাম্পের মৃত আবু সুফিয়ানের ছেলে মো. জাহেদ হোসেন (২৫) এবং পালংখালী এলাকার মৃত নুর সালামের ছেলে নুর আহাম্মদ ওরফে মেহেদী (৫৪)।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, রাতে পুলিশের একটি দল নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কয়েকজন ব্যক্তি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন যানবাহনে করে কুতুপালং বাজারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। খবরের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের সহায়তায় গয়ালমারা এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে পালংখালীর দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে চালক সংকেত উপেক্ষা করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ কৌশলে অটোরিকশাটি আটক করে তল্লাশি চালায়।
এ সময় যাত্রী মো. ইসমাইল ও চালক মো. জাহেদ হোসেনের কাছ থেকে পাঁচটি জিপারযুক্ত পলিপ্যাকে রাখা ৮৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের দুজনকে আটক করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
একই রাতে দ্বিতীয় অভিযানে পালংখালীর দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় চালক নুর আহাম্মদ ওরফে মেহেদীর দুই পায়ের মাঝখানে রাখা একটি সাদা পলিথিনের ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে আটক করার পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইকটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার মোট পরিমাণ ৫০ হাজার ৮৬৮ পিস। এর মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ৮৬৮ পিস এবং ইজিবাইক থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
পৃথক অভিযানে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জব্দ করা যানবাহন ও মোবাইল ফোনগুলোও এ ঘটনায় তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বিষয়। এ অঞ্চলে সড়কপথে মাদক পরিবহন ঠেকাতে টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে উদ্ধার করা মাদকের উৎস, এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং চালানটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ অভিযানকে মাদক পরিবহন প্রতিরোধে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্ধার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।