গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফেরার পথে দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যানের চাপায় এক পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) ও স্থানীয় বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও এক উপপরিদর্শক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশের গাড়িচালকও। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান (৩০) এবং উপজেলার তুমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫)। রফিকুল ইসলাম স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি মৃত ওয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে।
এ ঘটনায় আহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন এসআই জাবেদ ওমর (২৮) এবং পুলিশের গাড়িচালক রাব্বি (২৮)। জাবেদ ওমরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্যদিকে, গাড়িচালক রাব্বি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত পৌনে ৩টার দিকে তুমুলিয়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী অহিদ মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানার একটি দল। এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে অহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে থানায় ফিরছিলেন পুলিশ সদস্যরা।
ফেরার পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে গাড়ি থামিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়ান এসআই মিজানুর রহমান, এসআই জাবেদ ওমর ও চালক রাব্বি। এ সময় সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে তাঁদের কথা হচ্ছিল।
কথা বলার একপর্যায়ে ঘোড়াশালগামী একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত কাভার্ডভ্যান তাঁদের সজোরে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলে চারজনই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর সঙ্গে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এসআই মিজানুর রহমান মারা যান। অপর আহত পুলিশ কর্মকর্তা জাবেদ ওমরের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদকবিরোধী অভিযান শেষ করে ফেরার পথেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের একজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির একজন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। আহত আরেক পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত করা এবং এর চালককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মাদকবিরোধী অভিযান শেষে ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের প্রাণহানি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে কাভার্ডভ্যানটির পরিচয়, চালকের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্তের পর আরও তথ্য জানা যাবে।